ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৫২, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, নিহত ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহতরা হলেন গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া ও গোয়ালনগর মসজিদের ইমাম মো. হাবিবুর রহমান।

এর আগেও গত মঙ্গলবার এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি জিয়াউর গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া নিহত হন। এ সময় ঝগড়া থামাতে গিয়ে মো. হাবিবুর রহমান নামে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের লোকজন সকাল থেকে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন