মাগুরা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ০৯:৫০, ৪ অক্টোবর ২০২৬
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধর্মদাহ গ্রামে দুটি সামাজিক দল রয়েছে। একটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সরোয়ার এবং অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন বকুল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বাড়ির উঠানে শাড়ি শুকানোকে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাই ইবাদত ও কুবাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুবাদ বকুল গ্রুপের এবং ইবাদত সরোয়ার গ্রুপের সমর্থক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৩ অক্টোবর সকালে সরোয়ার গ্রুপের সমর্থক মো. লুৎফর মোল্লা শত্রুজিতপুর বাজারে গেলে বকুল গ্রুপের সমর্থকরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে লুৎফর মোল্লা আহত হন।
সরোয়ারের অভিযোগ, পূর্বের বিরোধ নিয়ে আজ দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার কথা ছিল। কিন্তু মীমাংসার আগেই বকুল গ্রুপের লোকজন তাঁর পক্ষের লুৎফর মোল্লার ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁর সমর্থকদের ১৫ থেকে ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
সরোয়ার আরও অভিযোগ করেন, বকুল গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গঠিত।
সরোয়ার গ্রুপের অভিযোগ, বকুল গ্রুপের সমর্থক আব্দুল্লাহ, তুষার, শামসুল, কাঞ্চন, ফরিদ ওরফে মামুন মাস্টার, রিপন, শাহাদাত, আমের ও ইজাজ আলী এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত।
অপরদিকে, বকুল গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, লুৎফর মোল্লার ওপর হামলার ঘটনার পর সরোয়ার গ্রুপের সমর্থকরাও বকুল গ্রুপের সমর্থক মানিক, রাজিব, রিপন, শুকুর, কুবাদ ও শাহাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বকুল গ্রুপের নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।