ছাতকের আনুজানীতে একের পর এক অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মুহাম্মদ জানে আলম, ছাতক(সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ: ১০:১৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ছাতকের আনুজানীতে একের পর এক অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের আনুজানী গ্রামে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু চুরি, ছিনতাই, ভূমি বিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আন্দোলন, সালিশ-মীমাংসায় অর্থ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ১ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন গ্রামের সচেতন নাগরিকদের একাংশ।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক লিখিত বক্তব্যে তারা এ দাবি জানান। তাদের পক্ষ থেকে পারভেজ মোসারফ স্বাক্ষরিত ওই বক্তব্যে বলা হয়, কারো প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা হয়রানি নয়, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করাই তাদের উদ্দেশ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি সালিশের নথি, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), ব্যাংক রেকর্ড, ভয়েস রেকর্ডসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ২০২০ সালে একটি গাভী চুরির অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, গাভীটি কয়েক হাত বদলের পর বিষয়টি স্থানীয় সালিশে ওঠে এবং টাকা ফেরতের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। একই সঙ্গে বরাটুকা মৌজার এজমালী ভূমি নিয়ে আনুজানী ও মেওয়াতৈল গ্রামের বিরোধ এবং এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আনুজানী জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক প্রবীণ শিক্ষককে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলন ও মব তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে আনুজানী ব্রিজ এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় দুটি মোবাইল ফোন ও প্রায় ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। একই সালিশে গরু চুরির অভিযোগও ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। চানপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের দুটি মহিষ চুরি ও এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে আনুজানীর জহুর আলী ও মাহমুদুল হাসান ছালিকের মধ্যে ভূমি বিরোধ এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নেয়ার উদ্যোগের অভিযোগও করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাওলানা সৈয়দুর রহমানের হারিয়ে যাওয়া স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংক চেকের ছবি আব্দুন নুর মেম্বারের মোবাইল ফোনে দেখা যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে জিডি, ব্যাংক রেকর্ড, চেকের ছবি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সালিশ-মীমাংসাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। মেওয়াতৈল এলাকার একটি বিরোধের সালিশে প্রায় ১০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ভয়েস রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

সবশেষে গত ১ আগস্ট আনুজানী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। অভিযোগকারীদের মতে, ওই সংঘর্ষের পেছনে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ, সালিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধের বিষয়ও তদন্তে আনা প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদেরও অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন