নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪৮, ২১ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ২০:২০, ২১ অক্টোবর ২০২৫
দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক ভাঙনের দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্নো ইন্ডাস্ট্রির আলোচনায় উঠে আসেন মানিকগঞ্জের জেলে পরিবারের মেয়ে নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি। একসময় গ্রামের সাধারণ মেয়ে, আজ তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চর পাটগ্রামের দরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান বৃষ্টির শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। মাত্র বারো বছর বয়সে বাল্যবিবাহ, তারপর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙন—সব মিলিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে অন্য পথে ঠেলে দেয়।
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বৃষ্টি হারিয়ে যান দীর্ঘদিন। বছর দুয়েক আগে তিনি হঠাৎ নানির বাড়িতে আসলে গ্রামের মানুষ তাকিয়ে অবাক—চেহারা, পোশাক ও আচরণে আমূল পরিবর্তন। পরে জানা যায়, বৃষ্টি তখন “নাদিয়া আক্তার” নামে পরিচিত এক অনলাইন তারকা।
সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বান্দরবান থেকে নাদিয়া ও তার কথিত স্বামী আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে। সিআইডির তথ্যমতে, তারা যৌথভাবে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল পরিচালনা করতেন, যেখানে দুই হাজারেরও বেশি সদস্য ছিল।
২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নাদিয়া প্রকাশ করেছেন ১১২টি ভিডিও, যা বিশ্বজুড়ে দেখা হয়েছে ২৬৭ মিলিয়নেরও বেশি বার। বিশ্বের বড় প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন প্ল্যাটফর্মে তিনি পারফর্মারদের মধ্যে নবম স্থানে ছিলেন।
তার দরিদ্র চা বিক্রেতা বাবা বলেন, “আমি তাকে বহু আগেই ত্যাজ্য করেছি। সে সমাজের বোঝা হয়ে গেছে।”
এলাকাবাসীর মতে, বাল্যবিবাহ, সামাজিক অবহেলা ও অর্থকষ্টই হয়তো নাদিয়াকে এই অন্ধকার পথে নিয়ে গেছে।