লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ০০:২৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০১:৪৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অভিযুক্ত রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ছনখোলা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান এসব তথ্য জানান। পরে রাজুকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে আসে বলে জানান তিনি।
হোটেলমালিকের ছেলে পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি নিজেকে একটি হোটেলের মালিকের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
এ ছাড়া রাজু নিজেকে স্নাতক পাস বলে পরিচয় দিলেও তিনি এসএসসি পাস করেননি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।
কক্সবাজারের রিসোর্টে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের ‘মেগালিথ রিসোর্টে’ অবস্থান করেন। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি রাজুর অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রীর মরদেহ
গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মো. সুমন নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষা
একজন কিশোরী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাজমিনের সঙ্গে রাজুর সম্পর্ক, পরিচয় গোপন করে প্রতারণার অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তবে তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।