শামস মাহমুদ তুষার, বগুড়া
প্রকাশ: ১০:৫৯, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:০২, ১১ জুন ২০২৬
ঘটনা গত ২০ এপ্রিলের, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন পূর্ব নির্ধারিত বগুড়া সফরে আসেন। রাষ্ট্রীয় এই সফর উপলক্ষে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের প্রায় ৫০০ মিটার একটি গ্রাম্য কাচা সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যায় দেখিয়ে ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা ঐ এলাকার স্থানীয়দের মুখে হাসি ফোঁটে। তারা ভাবেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কারণে তারা দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সড়ক পেয়েছেন। কিন্ত সেই হাসি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হতে না হতেই ২০ এপ্রিল বিকেলেই সড়কটির সকল ইট খুলে নিয়ে রাস্তাটিকে আগের চেয়েও আরো খারাপ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় এলজিইডির নির্ধারিত লোকজন। এরপর বৃষ্টিতে ইট তুলে নেয়া সড়কটির অবস্থা কর্দমাক্ত ও চরম বেহাল হয়ে পড়লে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরো শতগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ পরিস্থিতির দায়ভার কোনভাবেই এড়াতে পারেন না, কারণ এলজিইডি তারই নিয়ন্ত্রিত অধিদপ্তর। তিনি এই জেলারই এমপি। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র ৫০০ মিটার সড়কটির ইটগুলো খুলে না নিলে কি সরকারের কোষাগার খালি হয়ে যেতো? যদি খুলেই নিতে হয় তাহলে রাস্তাটি করাই বা হলো কেনো??
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমই ঐ রাস্তাটি তৈরি করে আবার তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
যদিও এলজিইডির বগুড়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো:মাসুদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন - ঐ সড়কটি পাকাকরণে গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লক্ষ টাকা ইতোমধ্যেই বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে , তাই অস্থায়ী ইটের রাস্তা বানিয়ে আবার খুলে নেয়া হয়েছে।
কিন্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ৮৪ লক্ষ টাকার ঐ সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স হক টেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান, চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে সড়কটির কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অদ্যবধি কাজ শুরুই করেনি।
এক্ষেত্রেও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বাধা বা স্বার্থ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা৷ কারণ, জানা গেছে এলজিইডির বগুড়া জেলার যাবতীয় ঠিকাদারির কাজ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘনিষ্ঠ ছাড়া কেউ পাচ্ছেন না। এমনকি খোদ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের ছেলে মীর সীমান্তেরই রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তার পরিবারসহ ঘনিষ্ঠজনরা লাভবান হলেও বদনামের ভাগীদার হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,আর ভোগান্তি বাড়ছে বগুড়া জেলাবাসীর। যাকে বগুড়া জেলাবাসীর সাথে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বেঈমানী হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
তবে, এ ব্যাপারে জানতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।