সাইফুদ্দিন হায়দার
প্রকাশ: ২২:২৩, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে বনভূমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে বন অধিদপ্তর। ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন মোট ২ লাখ ১৭ হাজার একর বনভূমির মধ্যে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ১০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন।
তিনি জানান, বনভূমি উদ্ধারে বন বিভাগ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ধার করা জমি সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের দখল, বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতির কারণে অনেক এলাকায় বনভূমি উদ্ধার করতে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন বলেন, বনভূমি উদ্ধারে বন বিভাগ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার ১০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। বনভূমি উদ্ধারের বিষয়টি শুধু বন বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন বনভূমির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। এসব জমির কোনো কোনো অংশে বিভিন্ন ধরনের কলকারখানা ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। শিল্পকারখানা স্থাপনের পর সেখানে অবকাঠামো তৈরি হওয়ায় দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে পড়েছে। এসব জমির একটি অংশ এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া বনভূমির বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বছরের পর বছর ধরে মানুষ বসবাস করায় ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি হয়েছে। ফলে এসব এলাকা থেকে বনভূমি উদ্ধারে প্রশাসনিক ও বাস্তব নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বন বিভাগকে।
বন কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো বনভূমি দখলমুক্ত করতে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হয় না। সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড, সীমানা নির্ধারণ, দখলকারীর পরিচয়, স্থাপনা অপসারণ এবং পরবর্তী সময়ে জমিটি পুনরায় দখল ঠেকানোর বিষয়ও দেখতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় জরুরি।
নতুন বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইনেও বনভূমি সুরক্ষা, অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বনভূমি উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি উদ্ধার করা জমি পুনরায় যাতে দখলে না যায়, সেটিও বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য উদ্ধার করা জমির সীমানা নির্ধারণ, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বনায়ন করা জরুরি।
প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন বলেন, বনভূমি উদ্ধারের কার্যক্রম বন্ধ নেই। পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকায় শিল্পকারখানা কিংবা জনবসতি গড়ে উঠেছে, সেসব ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে সরকারের নতুন আইন এবং বড় পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিদ্যমান বনভূমি রক্ষার বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নতুন করে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি উদ্ধার এবং উদ্ধার করা জমি পুনরায় দখলমুক্ত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে বন সংরক্ষণের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।