কক্সবাজার সীমান্তে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, মূল্য ৩ কোটি টাকা

মো ইসমাইল,  কক্সবাজার:

প্রকাশ: ২৩:২৪, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার সীমান্তে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, মূল্য ৩ কোটি টাকা

সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর একটি চৌকস ও বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই সুবিশাল ইয়াবা চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ:

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় ও বড়সড় চালান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে—এমন সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্য পৌঁছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়কের কাছে। গোপন তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং চোরাচালান ভেস্তে দিতে আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকার কৌশলগত ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে ও ওত পেতে থাকে।

একপর্যায়ে গভীর রাতে সন্দেহভাজন কয়েকজন পাচারকারীকে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের দিকে আসতে দেখে বিজিবি টহল দল। পাচারকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে এবং দ্রুত ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালালে বিজিবির উপস্থিত টের পেয়ে যায় চোরাচালানকারীরা। বিজিবির কঠোর ও সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে পাচারকারীরা তাদের সাথে থাকা প্লাস্টিকের বস্তা ও ব্যাগ ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী গহীন পাহাড়ি জঙ্গল ও নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিজিবির আভিযানিক দল ওই সীমান্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে চোরাচালানকারীদের ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত ব্যাগ ও বস্তার ভিতর থেকে বিশেষ কৌশলে প্যাকেটিং করা ১,০০,০০০ (এক লাখ) পিস মিয়ানমার প্রস্তুতকৃত বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে রাতের অন্ধকার এবং দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে কোনো পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবির কঠোর বার্তা ও পরবর্তী কার্যক্রম:

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, "সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান, সীমান্ত অপরাধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক কারবারিরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।"

উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ এই ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্যাটালিয়ন সদরের মালখানায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো ধ্বংস করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

একই সাথে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে বিজিবির পক্ষ থেকে এলাকাটিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন