নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৪৩, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৫, ৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় ‘মীরগড়-ভজনপুর সড়কে করতোয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সেতু নির্মিত হলে করতোয়া নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে করতোয়া নদীর ওপর থাকা একটি কাঠের সেতু ব্যবহার করেই মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। প্রতিদিন এই সেতু পার হতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নদী পারাপারের জন্য প্রতিবার ১০ টাকা করে দিতে হয়। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো এবং অসুস্থ রোগীদের উপজেলা ও জেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জয় বলেন, ‘অনেক বছর ধরে কাঠের সেতু ব্যবহার করেই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষার সময় এবং ভারী যানবাহন চলাচল করলে সমস্যাটি আরও বেড়ে যায়। নতুন সেতু নির্মাণের খবর আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। সেতুটি নির্মিত হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে।’
আরেক বাসিন্দা আসিম উদ্দিন বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণ হলে কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে পঞ্চগড় শহরে যাতায়াতও সুবিধাজনক হবে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে থাকায় আমরা আনন্দিত।’
সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিকেলে মীরগড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। পরে তারা একে অপরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী বলেন, মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে করতোয়া নদী পারাপারে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। একই সঙ্গে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল এবং পণ্য পরিবহন আরও সহজতর হবে।