নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০১, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৩, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার (৬ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহভাজন পণ্যচালানটির পরীক্ষা করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে।
‘ইউজড ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি’ ও ‘পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি’ ঘোষণা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলামিন শেখ জানান, চট্টগ্রামের হালিশহরের মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল (বিআইএন: ০০৪৫৮৯০০৫-০৫০৩) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি’ থেকে চালানটি আমদানি করে। এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের ‘আমিন সিঅ্যান্ডএফ (প্রাইভেট) লিমিটেড’ (আইএন: ৩০১০৪৩০১২১)।
চালানটির বিল অব লেডিংয়ে ‘ইউজড ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি’ ও ‘ইউজড পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি’সহ সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কন্টেইনারে যা পাওয়া গেছে-
সম্পূর্ণ নকডাউন (সিকেডি) অবস্থায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০০৯ সালের মডেলের ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।
বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি গাড়ির শুধু সামনের অংশ বা হাফ-কাট পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালের মডেলের এ গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘোষণা-বহির্ভূতভাবে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, আমদানি নীতি লঙ্ঘন করে এভাবে কাটা গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা চালানে এনে পরে সেগুলো পুনঃসংযোজন করার কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, তা অনুসন্ধানে অন্যান্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
পণ্যগুলোর বিস্তারিত ইনভেন্টরি, চেসিস বা ভিআইএন নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং শুল্ক-কর যাচাই শেষে ‘কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২৩’ ও অন্যান্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় এ ধরনের অবৈধ গাড়ি বা যন্ত্রাংশ আমদানির প্রচেষ্টা রোধে কাস্টমস গোয়েন্দার নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।