ইস্তাম্বুলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

সরকারি খাতে এআই গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি যেনো বৈষম্য তৈরি না করে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৩৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি খাতে এআই গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি যেনো বৈষম্য তৈরি না করে

সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলন ‘AI Governance in Practice: Practical Use Cases, Institutional Capacity, Innovation at Scale and Global Cooperation’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, এআই এখন আর কেবল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তবে কত দ্রুত এআই গ্রহণ করা হবে, শুধু সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এ প্রযুক্তি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিই মূল বিষয়।

এআই সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরেন ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্যে প্রথমটি হলো আস্থা ও বিশ্বাস। সরকারের এআই ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, উপযুক্ত ডেটা গভর্ন্যান্স ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো একক দেশের কাছে এআই ব্যবহারের সব সমাধান নেই। অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য সৃষ্টি না করে; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার শক্তি হিসেবে কাজ করে।

এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ইস্তাম্বুলের এ সম্মেলন উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না। এ সময় তিনি এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, ইউএনডিপি ও তুরস্ক প্রজাতন্ত্র যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন