আবরার ফাহাদের আত্মদানের পরিণতিতেই শেখ হাসিনার পতন: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রকাশ: ২১:২৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আবরার ফাহাদের আত্মদানের পরিণতিতেই শেখ হাসিনার পতন: রিজভী

শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মদানের চূড়ান্ত পরিণতিতেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। 

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই অপরাধেই তাকে ফ্যাসিস্টদের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই জাতির রক্তের কণায় কণায় বিদ্রোহের যে স্রোত বইছে, তা শেখ হাসিনা শত গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েও স্তব্ধ করতে পারেনি। আবরারের সেই শহীদী আত্মদানেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ২৪-এর জুলাই ও ৫ আগস্টে। যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে ভীত শৃগালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, বাংলায় প্রবাদ আছে-‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী।

’ দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদই ছিল আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি, কিন্তু দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই কারো কাছে আত্মসমর্পণ করব না।

বিগত সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার একটা সিগন্যাল দিতে চেয়েছিল যে, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। বিশেষ করে যে রাষ্ট্রের হাতে আমাদের সব সুবিধা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই আবরার ফাহাদের ভাগ্য বরণ করতে হবে। কিন্তু আনফরচুনেটলি তা উল্টো ব্যাকফায়ার করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে যেসব ঘটনা সাহায্য করেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদাত বরণ অন্যতম কারণ ছিল।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরও আমরা একদিনের জন্যও রাজপথ ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। ছাত্রদল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো সেই আপসহীন পথেই রয়েছে। আমরা কখনো এই দেশে ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না এবং আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন