বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জেডিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮:০৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জেডিপির

অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করাই বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। তিনি বলেছেন, কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণ ও বিদেশি আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জেডিপি।

আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে নাঈম আহমাদ বলেন, তাঁরা শুধু তিনজন ব্যক্তি নন; বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্নের প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার বহনকারী প্রজন্মের হাতেই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ প্রশ্ন করার সাহস, আবু সাঈদ অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানোর সাহস এবং ওসমান হাদি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন রাষ্ট্রচিন্তার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাঁদের উত্তরসূরি বলতে কোনো ব্যক্তিপূজা নয়; বরং ন্যায়, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় মর্যাদার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার উত্তরাধিকারী প্রজন্মকে বোঝায়।

বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের বিষয়ে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে একটি রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিকভাবে জবাবদিহিমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষ্য, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ বলেন, জেডিপি ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, চীনপন্থী বা আমেরিকাপন্থী বাংলাদেশ চায় না; তারা ‘বাংলাদেশপন্থী বাংলাদেশ’ চায়। তাঁর মতে, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের জনগণেরই থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞান ও বিতর্কের জায়গা; কোনো রাজনৈতিক দলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্থান নয়। ছাত্ররাজনীতির নামে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভয় দেখানো বা হত্যার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।

নাঈম আহমাদ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে এবং সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে থাকবে, আর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক হামলার আতঙ্কে থাকবে—এমন দ্বৈত নীতি চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। পানি, সীমান্ত, সমুদ্র, বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেওয়া নয়; বরং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা করবে, কিন্তু কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না এবং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করবে না।

এ সময় ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতিও জেডিপির পক্ষ থেকে সংহতি জানান নাঈম আহমাদ।

জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী পররাষ্ট্রনীতি ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে আবরার ফাহাদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসের মাধ্যমে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করতে বিলম্ব হচ্ছে।

বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আগ্রাসনবিরোধী যে চেতনা তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদির আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মুনিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, জনতার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব স্বনাম ফুয়াদ, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইউসুফ আম্মার, জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব হোসেন সাব্বির এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন