নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ১১:০৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাকিব বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তার অভিযোগ, কিন্তু এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িত শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমরা সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
পোস্টে তিনি লিখেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি সহ অধিকাংশ সংগঠনগুলোতে প্রকাশ্য রাজনীতিতে যাদের দলীয় পদ রয়েছে, তাদের অন্তর্ভুক্তিতে লিখিতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা হয়েছে। এ সুযোগে গুপ্ত সংগঠনের মুনাফেক নেতা-কর্মীরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি সহ অধিকাংশ সামাজিক -সাংস্কৃতিক - সহশিক্ষামূলক সংগঠনগুলোকে গুপ্ত রাজনীতির আখড়া হিসেবে ব্যবহার করছে। ‘সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও লেনদেন পুরোপুরি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। বিগত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক সংগঠনগুলোতে যারা শীর্ষ পদে ছিল, পরবর্তীতে তারা কোন দলের পারপাস সার্ভ করে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলেই আমার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে।
ছাত্রদল সভাপতি দাবি জানান, এভাবে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুপ্ত রাজনীতি'র আতুর ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। অচিরেই গুপ্তদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। সেই সাথে দাবি করছি,সত্যিকারের সাধারণ শিক্ষার্থী অথবা যারা প্রকাশ্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, উভয়েরই মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সাংবাদিক সমিতি,ডিবেটিং সোসাইটি সহ ক্যাম্পাসকেন্দ্রীক সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে অবাধ প্রবেশিধার নিশ্চিত করতে হবে।
ফেসবুক পোস্টে রাকিব বলেন, এক শ্রেণির অরাজনৈতিক সংগঠনের পদধারী যারা গুপ্ত মোনাফেকদের জাকাতের টাকায় জীবন জীবিকা নির্বাহ করে শিবিরের ঢাল হিসেবে ছাত্রদলকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্ররোচিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য আমি অনুরোধ করছি। অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে গুপ্ত রাজনীতি মুক্ত করতে হবে। অন্যথায়, ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক অনাকাঙ্খিত প্রেক্ষাপটে যারা শিবিরের বি টিম হিসেবে ছাত্রদলকে মোকাবিলা করতে আসবে, তাদেরকে আজ থেকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
গুপ্ত রাজনীতিতে জড়িত হয়েও যারা অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো দখল করে শিবিরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করছে তাদের হাত থেকে এই সংগঠনগুলো উদ্ধার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে বলে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণসহ প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সকল শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, যারা নিরপেক্ষতার আড়ালে ক্যাম্পাসভিত্তিক সংগঠনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আন্ডারগ্রাউন্ড ইউনিট হিসেবে কাজ করে, মব সংস্কৃতি, গালিগালাজ বা গুপ্ত রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে তাদের কর্মকাণ্ড গোপন থাকবে না।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, সময়ই তাদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করবে এবং সেই অনুযায়ী আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেজন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছি।