এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৯:৫২, ৬ অক্টোবর ২০২৬
বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে বন্দরের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম আধুনিক ও লাভজনক স্থাপনা। বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এ টার্মিনালের মাধ্যমে হয়ে থাকে। দেশীয় প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও শ্রমিকদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ মেয়াদে টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়া হলে তা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
তারা বলেন, দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একইসাথে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আন্দোলন আরো কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে বন্দরে অলআউট ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
কর্মসূচিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ডক শ্রমিক দল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সংহতি ও সমর্থন জানায়।
এদিকে আন্দোলনকারীদের অপর একটি প্ল্যাটফর্ম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আগামী ৭ অক্টোবর মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।