জ্বালানি-অবকাঠামো অর্থায়ন নিয়ে আলোচনায় ঢাকায় বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রকাশ: ২৩:২৯, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩২, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি-অবকাঠামো অর্থায়ন নিয়ে আলোচনায় ঢাকায় বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল

এলএনজি আমদানির অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে বাংলাদেশে এসেছে বিশ্বব্যাংকের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে তাদের এই সফর।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অবকাঠামো বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক পঙ্কজ গুপ্তের নেতৃত্বে চার সদস্যের দলটি শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছেছে। আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা।

সফরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নীতিগত বিষয়, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন, সরবরাহ নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাতভিত্তিক সংস্কার, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের অপারেশন্স ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে চিঠি দিয়ে সফরের বিষয়টি জানিয়েছেন। চিঠিতে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনাকে সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান জ্বালানি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয় সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাবে, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। এ চাপ সামাল দিতে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

এদিকে, এলএনজি আমদানির অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা রয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের জুনে অনুমোদিত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের পর চলতি বছরের ১৫ মে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করে সংস্থাটি। এর লক্ষ্য পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা এবং ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমানো।

জ্বালানি খাতের বাইরেও চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম লজিস্টিকস ও পরিবহন করিডর, রেলপথ উন্নয়ন, নৌপরিবহন, নগর উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

সফরকালে অর্থ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন