এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১:১৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইতোমধ্যে বন্দরের শতভাগ ভেসেল বিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ই-গেট পাস, গেট ইন-আউট, ভেসেল ই-এনওসি, অনলাইন কার্ট টিকিট ও টাইম স্লট ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল করা হচ্ছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে মাশুল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে ছুটির দিন ও অফিস সময়ের বাইরেও মাশুল পরিশোধ করা যাবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাশুল পরিশোধ না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে। টিওএসে অনলাইনে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন, এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেকবাল্ক অপারেশন অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বন্দরের যানজট কমাতেও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে কোন ট্রাক কখন বন্দরে প্রবেশ করবে এবং কোন পণ্য নিয়ে বের হবে, তা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিং করে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের বিভিন্ন সেবায় অটোমেশন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় কার্যক্রমে দক্ষতা ও গতি বাড়ছে। এনসিটির কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বন্দর সেবাকে আরো ডিজিটাল করা, যানজট কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানি কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ টিওএসের মাধ্যমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বাদ দেয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে টিওএসকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কোনো কনটেইনার আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ব্যবস্থায় একই কাজের জন্য ব্যবহারকারীদের একাধিক দপ্তর বা ডেস্কে ঘুরতে হবে না। অনলাইনে নথি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তাও জানা যাবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বাড়বে।
ইতোমধ্যে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট পোর্ট ও পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। এ প্ল্যাটফর্মে এক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং জাহাজের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শীর্ষ সংবাদ: