শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৪৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫০, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাফর ইকবালের পরিবারেও ছিল সংগীতের শক্ত উপস্থিতি। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন সংগীত পরিচালক ও সুরকার; ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিলেন দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী। ফলে সংগীতের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠার সম্পর্ক ছিল পারিবারিকভাবেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ১৯৬৬ সালে বন্ধুদের নিয়ে তিনি একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন। অভিনয়ে আসার আগে এভাবেই তৈরি হয় তার গায়ক পরিচয়। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক খান আতাউর রহমানের ‘আপন পর’ দিয়ে। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কবরী। চলচ্চিত্রে আসার পর ধীরে ধীরে অভিনয়েও নিজের জায়গা করে নেন তিনি। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি ‘মাস্তান’ তাকে ড্যাশিং নায়কের পরিচিতি এনে দেয়। পরে ‘নয়নের আলো’ তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবেও দর্শকের কাছে প্রতিষ্ঠিত করে।
তবে জাফর ইকবালের তারকাখ্যাতির পেছনে শুধু অভিনয় ছিল না। তার সময়ের অন্য অনেক নায়কের তুলনায় পোশাক, চুলের স্টাইল ও ব্যক্তিত্বে তিনি ছিলেন আলাদা। পর্দায় তার শরীরী ভাষা এবং চরিত্র উপস্থাপনের ধরনও তৈরি করেছিল স্বতন্ত্র একটি স্টাইল। এ কারণেই তাকে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্টাইলিশ নায়ক এবং ফ্যাশন আইকন হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
ভক্তদের কাছে তার আরেকটি পরিচিতি ছিল ‘বাংলার এলভিস প্রিসলি’। রক অ্যান্ড রোলের কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির প্রতি তার আগ্রহ এবং নিজের সংগীতচর্চা, পোশাক ও ব্যক্তিত্বে তার প্রভাবের কারণেই এই উপাধি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
জাফর ইকবালের চলচ্চিত্রজীবনের বিস্তৃত তালিকায় রয়েছে ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘মাস্তান’, ‘নয়নের আলো’, ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘আশীর্বাদ’, ‘প্রতিরোধ’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’সহ আরও বহু ছবি। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় ১৫০টি।
অভিনয়ের পাশাপাশি জাফর ইকবালের গায়ক পরিচয়ও ছিল শক্তিশালী। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’, ‘প্রেমের আগুনে’ ইত্যাদি। আশির দশকে তার একটি অডিও অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছিল। জাফর ইকবালের জীবনের শেষ অধ্যায় আসে অকালেই। শারীরিক নানা জটিলতায় জর্জরিত নায়ক ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে চলে যান শেষ ঠিকানায়। তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘লক্ষ্মীর সংসার’।
শীর্ষ সংবাদ: