মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
প্রকাশ: ১৮:৪৩, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় এক বছর ধরে শিল্পনগরীতে অন্তত ৩০ জন দুর্বৃত্তের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কারখানা থেকে প্রকাশ্যে মালামাল চুরি এবং শ্রমিকদের বেতন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম। বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক খালেক মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) মৌমিতা দাশ, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) কাজী মো. বিধান আবিদ, চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও শিল্প মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীকে পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শিল্প কারখানাগুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং বিসিকের অধীনে নিরাপত্তা আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হবে। সংঘটিত অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি নিরাপত্তা জোরদারে শিল্পনগরীর চারটি প্রবেশপথে গেট নির্মাণের জন্য বিসিক কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। বিসিকের অভ্যন্তরে জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে শিল্প পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট থানা ও শিল্প পুলিশকে অবহিত করতে হবে। একইসাথে শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারের আয়োজন এবং কারখানা মালিকদের উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক খালেক মাহমুদ শিল্পনগরীর নিরাপত্তায় নতুন নিরাপত্তা গেট নির্মাণসহ সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মালিক সমিতির জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং অবৈধ ভাসমান দোকান উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়।
শিল্প মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব অবৈধ দোকানকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হলে শিল্পনগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে তারা মনে করছেন।
শীর্ষ সংবাদ: