মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রকাশ: ২৩:১৮, ৩ অক্টোবর ২০২৬

মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় কম, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে। অপরদিকে, জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় কম। ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন বড় অগ্রাধিকার।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে এসেছে এবং গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের খরচ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও অস্থির রয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে।

আমদানিনির্ভর ও রফতানিমুখী অর্থনীতি হওয়ায় এসব বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার ও রফতানি আদেশে এর প্রভাব দেখা যায়।

দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা লুকিয়ে লাভ নেই; স্বীকার করলেই সমাধান শুরু হয়। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা, কর ব্যবস্থাকে ন্যায্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে। রফতানিকে শুধু বাণিজ্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না রেখে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

‘ইকোনথন ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া, চাপের মধ্যে চিন্তা করা এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন