ঘুষ ছাড়া দলিলে স্বাক্ষর করেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার!

খোরশেদ আলম, নোয়াখালী 

প্রকাশ: ২২:৩২, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঘুষ ছাড়া দলিলে স্বাক্ষর করেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার!

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন করেন না। রেজিস্ট্রি ছাড়াও দলিলের নকল কপি তোলা, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামা ও চুক্তিপত্রের মতো দলিল সম্পাদনেও সেবাগ্রহীতাদের দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ।প্রতি হাজারে গড়ে এই ঘুষের টাকার হার ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আর দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করা ঘুষের এই টাকার ভাগ পিওন থেকে শুরু করে নোয়াখালী জেলা রেজিস্ট্রার,আইজিয়ার অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পর্যন্ত পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এই ঘুষের টাকা দলিল লেখকদের কাছ থেকে নেন অফিস সহকারী (কেরানি)আলিমুল ইসলাম। সারাদিন ঘুষের টাকা সংগ্রহ করে রাতের বেলায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এই টাকা ভাগভাটোয়ারা হয় বলে জানা গেছে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, দলিলের নকলের আবেদন করার পর কর্মচারীদের ঘুষ না দিলে তাঁরা মাসের পর মাস ঘোরাতে থাকেন। বলতে থাকেন, দলিল এখনো হয়নি বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ঘুষ দিলে সঙ্গে সঙ্গেই দলিল বের করে এনে দেওয়া হয়। দলিলে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে ১০ থেকে ২০ হাজার চুক্তি করে ঘুষ নিয়ে কাজ করে দেওয়া হয়। জমি বিনিময় কিংবা বণ্টনের সময় ইচ্ছেমতো ঘুষ আদায় করেন কর্মচারীরা। কোন সেবার জন্য কত টাকা ফি লাগবে, এ রকম কোনো মূল্যতালিকা অফিসে পাওয়া যায়নি। 

জানা গেছে, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে জমি বিক্রেতার স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্চা, খাজনা-খারিজ, এনআইডি, ছবিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার ১০০ টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের সাড়ে ৭ ভাগ ও পৌর এলাকায় সাড়ে ৯ ভাগ হারে কর জমা দিতে হয়। তার পরই একটি দলিল সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের কথা; কিন্তু সেই নিয়ম অনেক সময় মানা হয় না।কোনো কাগজের ফটোকপি থাকলে ১০ হাজার, একই দাতার একাধিক দলিল হলে ৩ হাজার, হেবা দলিলের ক্ষেত্রে ৩ হাজার, হেবার ঘোষণাপত্র এবং দানপত্রে আয়কর বা টিন সার্টিফিকেট না থাকলে ৫ হাজার, বিক্রেতার জমির পর্চায় বাবা, মার নাম থাকলে ৫ হাজার, দাদা, দাদি, নানা, নানির নামে পর্চা থাকলে ১০ হাজার, নামের সঙ্গে ডাক নাম যুক্ত থাকলে ৫ হাজার, বণ্টন নামা দলিল ও রেজিস্ট্রি বায়নার ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান,প্রথমেই দলিল লিখে লেখক রা অফিসের সহকারী জাকির হোসেনের কাছে নেন। তিনি ব্যাংকের প্রে অর্ডার চেক করে কেরানি আলিমুল ইসলামের কাছে পাঠান। সে দলিলের মূল্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ নিয়ে দলিলে সংকেত চিহ্ন দিলেই সাবলিস্টার সিরাজুল হক স্বাক্ষর করেন। আর না হয় তিনি দলিলের স্বাক্ষর করেন না। দাতা গ্রহীতাকে হয়রানি করতে থাকেন। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সাব রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘ দুই বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থেকে সোনাইমুড়ীতে যোগদান করেন।তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলায়।নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্বোধন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই এখানে পোস্টিং নিয়েছেন। আর নিজ জেলা হওয়ায় এখানে আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার নিয়মেই চলে এই অফিসটি। 

সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্টার সিরাজুল হকের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।তার অফিসে গিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন