কক্সবাজারে ইয়াবাকারবারি এমপি শাহাজাহান হয়ে পড়ছেন কোনঠাসা

খান মাঈনুদ্দিন

প্রকাশ: ২২:১৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে ইয়াবাকারবারি এমপি শাহাজাহান হয়ে পড়ছেন কোনঠাসা

কথায় আছে বুড়ো বয়সে ভিমরতি, কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর বেলায় প্রবাদটি এখন শতভাগ সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর দলীয় নেতাকর্মীদের পরিশ্রমে এমপি হয়ে সামলাতে পারেননি ইয়াবা কারবারের লোভ। দলের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের ন্যূনতম মূল্যায়ন না করে চিহ্নিত ইয়াবাকারবারী,আওয়ামী লীগ নেতা, মানবপাচার ও অপহরণকারী চক্র, রোহিঙ্গা,এবং দখলবাজদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিক্রি করেছেন বিএনপির দলীয় পদ পদবী, আর টাকা দিয়ে বিএনপির পদ কিনে গোটা দেশকে ইয়াবায় ভাসিয়ে দিচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাক ও উখিয়ার ইয়াবা কারবারিরা। 

 

 

শুধু তাই নয় টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত ডাকাত ও অপহরণকারী আনোয়ার ওরফে লেডাইয়াকে নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন পদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবাকারবারী মান্নানের পক্ষে নিজ প্যাডে করেছেন লিখিত সুপারিশ, ওদিকে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে পাঠিয়েছেন নিজের প্রতিনিধি হাসান সিদ্দিকীকেও। আর ইয়াবাকারবারী হিসেবে কুখ্যাত হয়ে ওঠা বুড়ো এমপি শাহাজাহান এতোকিছুর মধ্যে পায়ে ঠেলে নিচে নামিয়েছেন বিএনপিকে, এই ইয়াবাকারবারি এমপি শাহাজাহান টেকনাফের সুলতান, ইমাম হোসেন, ও কক্সবাজারের ছাত্রনেতা আল আমিন সহ ত্যাগী বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের দিয়েছেন হয়রানিমূলক একাধিক মামলা। ওদিকে কাইয়ুমের মতো রোহিঙ্গা ইয়াবাকারবারী এনামুলের মতো বদির শ্যালক ও আওয়ামী লীগ নেতা এবং কক্সবাজারে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় ইয়াবাকারবারি উখিয়ার পালংখালীর ফয়েজকে বানিয়েছেন নিজের সঙ্গী। 

 

এছাড়া ইয়াবাকারবারি এমপি শাহজাহান তার মাদকাসক্ত ছেলে রাজিব, ভাই সরোয়ার জাহানসহ পরিবারের প্রায় সকলকে লেলিয়ে দিয়েছেন উখিয়া টেকনাফের সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে অদ্যবধি ইয়াবাকারবারী এমপি শাহজাহান তার ভাই ও ছেলেকে দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে শত শত পরিবারকে করেছেন ঘরছাড়া। তাদের দিয়ে বেপরোয়াভাবে দখল করিয়েছেন অসংখ্য হাট, বাজার, বন্দর, স্ট্যান্ড, ঘেরসহ সাধারণ মানুষদের জমিজমা।  

 

আর এসব করতে করতে ভিমরতিতে ধরা বুড়ো ইয়াবাকারবারী এমপি শাহাজাহান ভুলেই গেছেন জনতার ক্ষোভ বলতে যে কিছু আছে। শাহজাহান পরিবারের অত্যাচারের শিকার একাধিক ভুক্তভোগী অগ্রযাত্রা প্রতিদিন কে জানিয়েছেন তাদের ওপর এ ধরণের নির্যাতন চলতে থাকলে যেকোনো সময় তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এই সন্ত্রাসী পরিবারের বিরুদ্ধে। 

 

শুধু তাই নয় চরম অবমূল্যায়িত হয়ে টেকনাফ-উখিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরাই এখন শাহজাহান চৌধুরী ও তার গোটা পরিবারকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয় জেলা বিএনপির সভাপতি হলেও ইয়াবাকারবারী এমপি শাহাজাহানকে কোন সম্মানই করেন না কক্সবাজার সদর বিএনপির নেতাকর্মীরা। ক'দিন আগে এমপি শাহজাহান সম্পূর্ণ গায়ের জোরে কক্সবাজার পৌর ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা আল আমিনের নামে থানায় মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করেছিলেন। 

 

 কক্সবাজার জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ অগ্রযাত্রা প্রতিদিন কে ইয়াবা কারবারি এমপি শাহাজাহানের বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য দিয়ে বলেন-

দলের দূর্দিনে এমপি শাহাজাহান বা তার পরিবারের বিন্দুমাত্র ভূমিকা নেই, তারা বদির পেছনে পেছনে ঘুরতো। 

কিন্ত, দীর্ঘ ১৭ বছর যেসব বিএনপি নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছিলো তাদের কোন মূল্যায়ন না করে যারা আমাদের মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে আমার সন্তানকে হত্যা করেছে তাদেরকেই মূল্যায়ন করছে এমপি শাহজাহান। আমরা এ বিষয়ে বহু আগেই দলীয় হাইকমান্ডকে জানিয়েছি,

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ-উখিয়ার একাধিক বিএনপি নেতা অগ্রযাত্রা প্রতিদিন কে জানিয়েছেন, এমপি শাহাজাহান ইয়াবা কারবার করে কক্সবাজারে বিএনপিকে ডুবাচ্ছেন, তিনি আওয়ামী লীগকে টাকার বিনিময়ে প্রশ্রয় দিচ্ছেন কিন্ত বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন, শাহজাহান ও তার পরিবার একতরফা লুটপাট এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে, এটা কখনো বিএনপির আদর্শ হতে পারে না। এসব বিষয়ে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। কেন্দ্র থেকে দ্রুত কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলে হয়তো ইয়াবা কারবারি এমপি শাহাজাহান ও তার পরিবার বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতেই গণধোলাই খাবে। 

 

 

 

ওদিকে ইয়াবাকারবারী এমপি শাহাজাহান চৌধুরীর ইয়াবা সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শাহাজাহানের ইয়াবা কারবারের পার্টনার একাধিক নেতাকে ইয়াবাসহ আটক করেছে প্রশাসন। ধরা পড়েছে লাখ লাখ পিস ইয়াবার চালান। 

 

 

যদিও টেকনাফ-উখিয়া থানা পুলিশকে প্রভাব খাটিয়ে জিম্মি করে রাখায় তারা এমপি শাহাজাহানের ইয়াবা কারবার নিয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না, কিন্ত বিজিবি, কোস্টগার্ড, ও এসআরবি বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না ইয়াবাকারবারী এমপি শাহাজাহানের ঘনিষ্ঠ ইয়াবাকারবারীদের। এতে অনেকটা চিন্তার ভাজ পড়েছে তার কপালে।

 

তথ্য রয়েছে- বিএনপির হাই কমান্ডসহ সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এমপি শাহাজাহানের ইয়াবা কারবারের বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছেন। শোনা যাচ্ছে তাকে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়াও হতে পারে। এমনকি এমপি হলেও তদন্ত করে তার অপরাধের বিচারের উদ্যোগও নিতে পারে সরকার। 

 

দর্শক, ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে আমরা তুলে ধরবো ইয়াবাকারবারী এমপি শাহাজাহান চৌধুরী কিভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছেন তার বিস্তারিত আদ্যোপান্ত.... 

 

চোখ রাখুন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে..

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন