মোঃ রাজু মিয়া সোহাগ, নীলফামারী
প্রকাশ: ০১:২১, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে এসে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে রাকিবের সঙ্গে মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন সেটি ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন এবং সেখানে মাটিচাপা দিয়ে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর রাকিবের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করলে একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলায় মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের সামনে আসে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাকিব জীবিত আছেন—এমন ধারণা দিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল কি না এবং সেটি ব্যবহার করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচিত একজনের বিরুদ্ধে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।