আলী হোসেন রনজু
প্রকাশ: ১৯:২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন হাবিবুর রহমান ওরফে পল্টি হাবিব, যুবলীগ নেতা হিসেবে দাপট দেখিয়ে বোর্ডবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী,বাড়িওয়ালা, এমনকি বীমা কোম্পানিকেও জিম্মি করে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন, শুধু তাই নয় নিজের পিতাকে চিকিৎসার নাম করে ঢাকায় এনে মানসিক নির্যাতন করে সকল পৈতৃক সম্পদ এমনকি বোন ও ভাইয়ের সম্পদও নিজের নামে করে নিয়েছেন এই পল্টি হাবিব। কিন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যুবলীগ থেকে পল্টি মেরে হঠাৎ নিজেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বিএনপি নেতা পরিচয় দিতে শুরু করেন পল্টি হাবিব৷ শুধু তাই নয় বিএনপি পরিচয় ব্যবহার করে শুরু করেন ভয়াবহ মামলা বাণিজ্য। ছাত্র হত্যার একের পর এক ভুয়া মামলায় নিজের ব্যবসায়ীক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম ঢুকিয়ে করতে থাকেন হয়রানি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পল্টি হাবিব যুবলীগ থেকে পল্টি মেরে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া, এবং মামলা বানিজ্য করতে পেছন থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের চরদুখিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা প্রতারক বাছির ও বিএনপির নাম ভাঙ্গানো আরেক প্রতারক ভোম্বা হান্নান। শুধু তাই নয় বিএনপির নাম ভাঙানো বহিষ্কৃত প্রতারক বাছির এবং কথিত বিএনপি নেতা প্রতারক ভোম্বা হান্নান এই পল্টি হাবিবকে ২০২৬ এর নির্বাচনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যুবলীগ নেতা পল্টি হাবিব প্রতারক বাছির ও ভোম্বা হান্নানের মাধ্যমে লায়ন হারুন কে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তার সাথে বিভিন্ন ছবি তোলেন। এবং পুরোদমে নিজেকে লায়ন হারুনের ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে নিজের পিতাকে হত্যার ঘটনা, বোন ও ভাই এবং এতিম ভাইজির সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দেন। ওদিকে লায়ন হারুনকে টাকা দিয়ে বিএনপি থেকে কয়েকবার বহিষ্কৃত প্রতারক বাছিরও লায়ন হারুনের ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতার ট্যাগ পেয়ে যান।
লায়ন হারুনের আশকারা পেয়েই পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা পল্টি হাবিব নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে হয়ে ওঠেন বেপরোয়া, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মামলা বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে একে একে হয়রানি করতে থাকেন গাজীপুরে তার ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষ, বাড়িওয়ালা, কর কর্মকর্তা, এমনকি তার অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদেরও।
মূলত, পল্টি হাবিব নিজের বাবা, বোন, ভাই,এতিম ভাইজি থেকে শুরু করে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ব্যবসায়ীক পার্টনার, এবং গাজীপুরের স্থানীয় বাড়িওয়ালা প্রায় সকলের সাথেই পল্টিবাজি বা প্রতারণা করে ধোঁকা দিয়ে অর্থ হাতিয়েছেন এছাড়া তার সখ্যতা রয়েছে কয়েকজন দূর্নীতিগ্রস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথেও, যাদের অবৈধ কালো টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় খাটিয়ে বৈধ বা সাদা টাকায় রুপান্তর করে দেন পল্টি হাবিব, এই জালিয়াতি থেকেও তার মোটা অংকের টাকা আয় রয়েছে। এতো এতো অবৈধ আয় থাকায় পল্টি হাবিব আজ পর্যন্ত তার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বৈধ উৎসের তথ্য সরকারের আয়কর বিভাগকে দিতে পারেননি৷ এমনকি গাজীপুরে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে আসা ২ কর্মকর্তাকে ভুয়া চাঁদাবাজির ঘটনা সাজিয়ে বিএনপি নেতা পরিচয়ে জিম্মি করে ব্যাপক হেনস্তার ভিডিও রয়েছে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের হাতে।
এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে পল্টি হাবিবের বিরুদ্ধে দুদক, এনবিআর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তা নিয়ে আবারো জোরালো তদন্তের ভয়ে পল্টি হাবিব তার অবৈধ সম্পদকে নিজের পৈত্রিক সম্পদ দেখাতে প্রায় ১৩ বছর আগে নিজেই মানসিক নির্যাতন করে হত্যা করা বাবার নামে একটি ভুয়া নোটারি তৈরি করেছেন বলে তথ্য এসেছে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের হাতে।
একসময়ের দাপুটে যুবলীগ নেতা পল্টি হাবিব বর্তমানে টাকার বিনিময়ে লায়ন হারুনের পরিচয়ে বিএনপি নেতা বনে গিয়ে প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন- টাকা দিয়ে আমি আইন আদালত পুলিশ সব কিনে নিয়েছি....
আর তা দিয়ে সকলকে শায়েস্তা করবো।
পল্টি হাবিবের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে ইতোমধ্যে গাজীপুরের গাছা থানায় একটি জিডিও হয়েছে।
দর্শক, ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে আমরা তুলে ধরবো নিজের পিতাকে হত্যা করা নিকৃষ্ট অপরাধী পল্টি হাবিব কিভাবে প্রভাব খাটিয়ে এতিমের হক আত্মসাত করেছেন সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আদ্যোপান্ত।
চোখ রাখুন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে..