মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:৩৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬
তবে পুরোনো সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন বগুড়ার মোকামতলার রহবল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় মাস্টার। শিক্ষকতা থেকে অবসরে গিয়ে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আখ চাষ করছেন। একই সঙ্গে নিজের চাষ করা আখ থেকে নিজেই তৈরি করছেন গুড়। এতে একদিকে যেমন তার অবসর সময় কাটছে, অন্যদিকে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যও ফিরে পাচ্ছে নতুন প্রাণ।
মঙ্গলবার সকালে রহবল বরমশহর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমিতে সারি সারি আখ। পরিপক্ব আখ কেটে সংগ্রহ করে সেগুলো নেওয়া হচ্ছে রস বের করা মেশিনের কাছে। মেশিনে চাপ দিয়ে আখ থেকে বের করা হচ্ছে রস। সেই রস কলাগাছের বাকল দিয়ে পড়ে জড়ো হচ্ছে বড় একটি পাত্রে।
এরপর শুরু হয় গুড় তৈরির মূল প্রক্রিয়া। বড় কড়াইয়ে আখের রস ঢেলে চুলায় জ্বাল দেওয়া হয়। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে জ্বাল দেওয়ার পর ধীরে ধীরে রসের পানি কমে আসতে থাকে। আগুনের তাপে একপর্যায়ে ঘন হয়ে যায় রস।
এরপর কড়াইটি চুলা থেকে নামিয়ে কাঠের নাড়ানি দিয়ে রসে কিছুক্ষণ ঢাবুর (নাড়াচাড়া) করা হয়। তারপর আস্তে আস্তে তা জমতে থাকে এবং একপর্যায়ে গুড় তৈরির উপযোগী হয়। তখন তা নামিয়ে এনে তৈরি করা হয় গুড়।
গুড় তৈরির পর সেটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ওজন করা হয়। প্রায় আধা কেজি করে ওজন করে হাতের সাহায্যে মুঠো আকারে তৈরি করেন বিনয় মাস্টার ও অন্যান্য শ্রমিকরা। পরে এসব গুড় খুচরা ও পাইকারি হিসেবে বিক্রি করেন বিনয় মাস্টার।
অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে বিনয় মাস্টার জানান, দীর্ঘদিন তিনি রহবল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বসে না থেকে কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ থেকেই আখ চাষ শুরু করেন। নিজের জমিতে উৎপাদিত আখ থেকেই গুড় তৈরি করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "আগে এ এলাকায় অনেকেই আখ চাষ করতেন এবং আখ থেকে গুড় তৈরি করতেন। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। আখ চাষ কমে যাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে গুড় তৈরির প্রচলনও কমেছে। তাই নিজে আখ চাষ করে নিজেই গুড় তৈরি করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "একসময় এলাকায় অনেক আখের চাষ এবং গুড় তৈরির প্রচলন ছিল। এখন সেভাবে আর দেখা যায় না। বিনয় মাস্টারের আখ চাষ ও গুড় তৈরির দৃশ্য অনেকের মধ্যেই পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে।