বাহুবলে এসআই মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ

নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ

প্রকাশ: ২০:০৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাহুবলে এসআই মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, অনৈতিক আচরণ ও পক্ষপাতমূলক তদন্তের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রাহিমা আক্তার নামে এক নারী হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ছানা মিয়ার পরিবারের সঙ্গে রাহিমা আক্তারের পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগে রাহিমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে থাকাকালে প্রায় দুই বছরের কষ্টার্জিত উপার্জনের পুরো অর্থ তার স্বামী ও শ্বশুরের কাছে দেন। ওই সময় তাকে ১০ শতাংশ বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পর প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অবগত রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৮ ডিসেম্বর রাহিমার শ্বশুর ছানা মিয়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বর্ণিত ঘটনার তারিখ নিয়েও আপত্তি রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তার ভাষ্য, মামলায় যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রায় চার মাস পর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বাহুবল মডেল থানাকে নির্দেশ দিলে এসআই মোর্শেদ আলম তদন্তের দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীর দাবি, তদন্তে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার বিনিময়ে এসআই মোর্শেদ তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহিমা আক্তার।

এ অবস্থায় এসআই মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাহিমা আক্তার। একইসাথে ঘুষ দাবি, পক্ষপাতমূলক তদন্ত ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

অভিযোগের অনুলিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেট রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর কাছেও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসআই মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন