মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৯:৫১, ৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পাঠ্যপুস্তক সংযোজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাঠ্যপুস্তকের উদ্বোধন করবেন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সারা দেশে খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টের পাশাপাশি অন্যান্য ক্রীড়া বিষয়ও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হবে। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠেও পরীক্ষায় অংশ নেবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী শুধু লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিলেই হবে না, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে তাকে মাঠে গিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও অংশ নিতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থভাবে বেড়ে উঠুক। একটি প্রজন্ম সুস্থভাবে বেড়ে উঠলেই আমরা একটি সুস্থ জাতি ও সুস্থ সমাজ উপহার দিতে পারব।
মো. আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে দেশের প্রতিটি জেলা স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন ও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করতে হবে। যাতে স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো এসব মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস ও দাবাসহ বিভিন্ন লিগ আয়োজন করতে পারে।
তিনি বলেন, আর্চারি, শুটিং ও হকির মতো যেসব খেলায় বাংলাদেশের ভবিষ্যতে ভালো করার সুযোগ রয়েছে, সেসব খেলাকেও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে এসব খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং এর কাজ চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে যেখানে সংস্কার প্রয়োজন, সেখানে সংস্কার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেসিংরুম, প্রেস বক্স ও গ্যালারি নির্মাণ বা সংস্কার করা হবে। অর্থাৎ আমরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা স্টেডিয়াম তৈরি করতে চাই। বর্তমানে যেসব অবকাঠামো রয়েছে, সেগুলোকে আগে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারোপযোগী করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে চিন্তা করা হবে। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড় এবং বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি হিসেবে ক্রীড়া ভাতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন করে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তারা যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য বাছাই করে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হবে। তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার দায়িত্বও গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খেলার মাঠ। আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও ইউএনও এ নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফুটসাল বা ছোট মাঠের ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মো. আমিনুল হক বলেন, আজ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরো অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলোও আমরা করব। খেলার মাঠের গুরুত্ব বোঝানোর জন্যই আমরা বারবার বলছি, যেখানে খালি জায়গা রয়েছে, সেখানেই সম্ভব হলে খেলার মাঠ তৈরি বা মাঠকে খেলার উপযোগী করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি এলাকার যুবসমাজ ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, মাঠে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণরা সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। বর্তমানে মাদকের কারণে অনেক যুবক ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। আমরা সেই যুবসমাজ ও আগামী প্রজন্মকে খেলার মাঠের প্রতি আকৃষ্ট করে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই।
এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ও শান্তির দূত পায়রা উড়িয়ে ক্রিকেট একাডেমির শুভ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি নবনির্মিত ড্রেসিংরুমের উদ্বোধন করেন এবং ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মো. সরফরাজ আহমেদ সরফু, ক্রিকেট একাডেমি শ্রীমঙ্গলের প্রশিক্ষক ও কোচ হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ক্রীড়াপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।