মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী
প্রকাশ: ২২:০৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার দুপুরে একদল শিক্ষার্থী ও জনতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য ও তাঁর একান্ত সহকারীকে অবরুদ্ধ করেন। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
তবে পদত্যাগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। তিনি বলেছেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি; বরং জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, “জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
তাঁকে কারা অবরুদ্ধ করেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঠিকাদারদের কিছু লোক, যারা কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল, তারা মব সৃষ্টি করে এসব করেছে।”
এদিকে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের গাছ, পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীরসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নিয়োগে বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন আন্দোলনকারীরা। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি।
উপাচার্যের একান্ত সহকারী ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে নাজমুল হোসেনের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন।