মোঃ সোয়েব আহামদ, ওসমানীনগর (সিলেট)
প্রকাশ: ১৯:৪১, ৬ অক্টোবর ২০২৬
আজ ৬ অক্টোবর(মঙ্গলবার ) উপজেলার গোয়ালাবাজার, তাজপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
স্থানীয়ভাবে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, কোথাও এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজির সরবরাহ কম থাকার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হঠাৎ করে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে সিলিন্ডার গ্যাসের বাড়তি মূল্য তাদের সংসার ব্যয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাসের বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্য কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা জানান, এলপিজি গ্যাস মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অন্যতম। এ পণ্যের মূল্য নিয়ে কারসাজি কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সমন্বয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাজারে এলপিজি গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।