হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল)
প্রকাশ: ১৯:১০, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১২, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ফাজিল পরীক্ষা চলাকালে চাউলকাঠী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নকলের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষা চলাকালে প্রশাসনিক তদারকি, নিরাপত্তা জোরদার এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে কেন্দ্রটি উপজেলা সদরে অথবা বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজে ভেন্যু হিসেবে স্থানান্তরের অনুরোধ জানায় উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর (স্মারক নং-৭৪৮) বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত চিঠি দেন। তবে ওই চিঠির পরও কেন্দ্রটি স্থানান্তর করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এরপর ২০২৪ সালের পরীক্ষা চলাকালে ওই কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীর লিখিত উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বানারীপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনার পর কেন্দ্রটি বাতিল এবং কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর দেওয়া ওই চিঠির স্মারক নম্বর ছিল ৮১৫/১।
বিষয়টি তদন্তে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক সরকারি ফজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে একই বছরের ১১ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উপজেলা সদরের বাইরে কেন্দ্রটি অবস্থিত হওয়ায় প্রশাসনিক তদারকিতে অসুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি বাতিল, সাময়িক স্থগিত অথবা উপজেলা সদরে ভেন্যু স্থাপনের সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরপরও কেন্দ্রটি বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর (স্মারক নং-৫৩৭) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাউলকাঠী কেন্দ্রটি উপজেলা সদরে প্রতিস্থাপনের জন্য ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পুনরায় চিঠি দেন। কিন্তু প্রশাসনের একাধিক সুপারিশ ও তদন্ত প্রতিবেদনের পরও কেন্দ্রটি বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেখানে বাস্তব সমস্যা রয়েছে, সেখানে উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার পরও কেন কেন্দ্রটি বহাল রাখা হয়েছে?
তাদের দাবি, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটি উপজেলা সদরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পূর্বের অনিয়মের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ কেন্দ্র বহাল রাখার পেছনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুললেও এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা নির্দিষ্ট কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “উক্ত মাদ্রাসাটি প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষার জন্য অনুপযুক্ত স্থানে অবস্থিত। সেখানে নকলের বিষয়ে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওই মাদ্রাসারই এক ছাত্রের খাতা বাইরে দেওয়ার অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। নানা অনিয়মে অভিযুক্ত এই কেন্দ্রটি বাতিল বা স্থানান্তরের জন্য প্রশাসনের সুপারিশ ও তদন্ত প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও পৌরশহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পরীক্ষা বহাল রাখার কারণ আমারও জানা নেই।”
প্রশাসনের সুপারিশ ও তদন্ত প্রতিবেদনের পরও চাউলকাঠী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা বহাল রাখার বিষয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।