খান মাঈনুদ্দিন
প্রকাশ: ২১:০৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজার টেকনাফ উখিয়ায় মাদক বিক্রি করে মাসে অন্তত ৯ কোটি টাকার বিশাল কালো সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী! তাঁরই হাত ধরে নেতা বনে যাওয়া সহযোগী মনিরের হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এবার সেই মাদকবিরোধী ভণ্ডামির মুখোশ পুরোপুরি খুলে পড়েছে। অপরাধ ঢাকতে নতুন প্রকল্প উদ্বোধনের নাটক শুরু করলেও উখিয়া-টেকনাফবাসী আর এই প্রতারণায় আর পা দিচ্ছে না !

কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রতি মাসে মাদক ও ইয়াবার সিন্ডিকেট থেকে তাঁর পকেটে ঢোকে অন্তত ৯ কোটি টাকা। এই বিশাল টাকার গরমেই তিনি সহযোগী ও চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি মনির আলম বাদশাকে টেকনাফ পৌর কৃষকদলের আহ্বায়ক পদ উপহার দিয়েছিলেন। তবে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সহযোগী মনির ও তার ভাই ধরা পড়তেই শাহজাহান চৌধুরীর পুরো ইয়াবা নেটওয়ার্কের থলের বিড়াল বাইরে চলে আসে। এই মহা কেলেঙ্কারি ও থলের বিড়াল আড়াল করতে এখন নতুন চাল চেলেছেন এই এমপি! এলাকায় ঘনঘন বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনের নাটক সাজিয়ে নিজেকে ধোয়াতুলসী পাতা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
শুধু ইয়াবা ব্যবসা কিংবা পদ বাণিজ্যই নয়, নিজের মাদকাসক্ত ছেলে রাজীবকে নামিয়ে উখিয়া ও টেকনাফজুড়ে কায়েম করেছেন ত্রাসের রাজত্ব। ক্ষমতা আর মাদকের নেশায় বুঁদ ছেলেকে দিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, আয়নাঘরের মতো টর্চার সেল বানিয়ে অপহরণ এবং মধ্যযুগীয় নির্যাতনের তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। এমপি পদের ছায়াতলে পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের নিরীহ মানুষের ওপর চালানো হচ্ছে নারকীয় জুলুম ও অত্যাচার। রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার পাহাড় গড়া আর নিজের মাদকাসক্ত ছেলেকে দিয়ে জনপদকে জাহান্নামে পরিণত করাই যেন শাহজাহান চৌধুরীর প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর সন্ত্রাসী পরিবারের এমন পৈশাচিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ এখন তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে । ভভুক্তভোগীদের সহজ কথা, মাদকের কোটি কোটি টাকা আর ছেলের অত্যাচার দিয়ে সীমান্ত শহরকে নরক বানানোর এই খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। হাজার হাজার তরুণের জীবন ধ্বংসকারী ইয়াবা গডফাদার এমপি শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর মাদকাসক্ত ছেলেকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
দর্শক পরবর্তী পর্বে থাকছে আরো বিস্তারিত চোখ রাখুন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে...
শীর্ষ সংবাদ: