ভূমিদস্যু পিতা ও কিশোর গ্যাং পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ চরভদ্রাসনবাসী 

মোস্তফা কামাল, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর):

প্রকাশ: ২১:৫৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূমিদস্যু পিতা ও কিশোর গ্যাং পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ চরভদ্রাসনবাসী 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে আলতাফ শেখ ও তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নানা কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলতাফ শেখের বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখল, হিন্দু সম্প্রদায়ের ফেলে যাওয়া জমি দখল, শরিকানা জমি কম দামে কিনে দখলে নেওয়া এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা করার মতো অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় তরুণদের নিয়ে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের আগস্টে চরভদ্রাসনের সদর ইউনিয়নের বিএস ডাঙ্গি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল কাদেরকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তী তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষপাতের কারণে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর পক্ষে যায়নি। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার শোনপঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গেও আলতাফ শেখের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষকের জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে আলতাফ শেখের বিরুদ্ধে।

সবশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলা করেন এবং তাঁর পায়ে গুলি করা হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোস্তাফিজুর রহমানকে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং পুলিশ তদন্তে কী তথ্য পেয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখানো, হামলা ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। কয়েকজন হিন্দু পরিবারও তাদের পৈতৃক সম্পত্তি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্বাধীনতার আগে প্রফুল্ল বিশ্বাসসহ কয়েকজনের শরিকদের ফেলে যাওয়া জমি পরবর্তীতে জাল দলিলের মাধ্যমে ভোগদখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব জমির প্রকৃত মালিকানা ও বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ শেখ ও তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এলাকাবাসীর দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, হামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মিথ্যা হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: