নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:০৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তিনি বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া জরুরি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই। এ ছাড়া অতিথি ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ওআইসি) ডা. রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের প্রধান পিটার মেস।
শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাইরে ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম উপায়।
রাজধানীর নাগরিক সেবা ও পানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাকি ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনে পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে রোদে কম থাকার কারণে ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার ফলে ক্লান্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিরাও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তাঁরা রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথবাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।