অগ্রযাত্রা প্রতিদিন প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০০:১২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, একটি প্রযুক্তিনগরী (টেক সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং দেশের তিন থেকে চারটি বিভাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছেন। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, দুর্নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
এ ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের প্রতি টেকসই সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, উপজেলা গভর্ন্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগে জাপান সরকার ৫০ বিলিয়ন ইয়েন, যা প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অর্থায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, একটি প্রযুক্তিনগরী (টেক সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং দেশের তিন থেকে চারটি বিভাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগে জাপান আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে জাপানের জেরা (JERA) এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ পরিদর্শন বলে জানান হুমায়ুন কবির।
এ ছাড়া জাপানের চিবা এলাকায় নিটস লজিস্টিক হাব পরিদর্শন করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই লজিস্টিক স্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে অনুরূপ অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহও বেড়েছে।
তিনি বলেন, জাপান সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতার চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে। এ সফর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।