নিজ বরাদ্দের আড়াই লাখ টাকায় শিক্ষার্থীদের উপহার দিলেন চাকসু এজিএস

দেবদাস বিশ্বাস,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ২৩:০৫, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিজ বরাদ্দের আড়াই লাখ টাকায় শিক্ষার্থীদের উপহার দিলেন চাকসু এজিএস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও আবাসিক হলের সমস্যা সমাধানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালীন এজিএস হিসেবে তার অফিস পরিচালনা, চা-নাস্তা ও আপ্যায়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার এক টাকাও নিজের বা অফিসের কাজে ব্যয় করেননি। বরং সম্পূর্ণ বরাদ্দকৃত এই অর্থ তিনি ব্যয় করেছেন আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীদের অতিপ্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সেবা উপকরণ নিশ্চিত করতে।

তৌফিকের এই অর্থায়নে কম্পিউটার সুবিধা থেকে বঞ্চিত শাহজালাল হল, অতীশ দীপঙ্কর হল এবং বিজয় চব্বিশ হলে নতুন কম্পিউটার উপহার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংসদ নেতৃবৃন্দ হলে একটি কম্পিউটারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা এই অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে পূরণ হলো।

এছাড়া শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে হলের ডাইনিংয়ে একটি উন্নতমানের সুপেয় পানির ফিল্টার স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হলের সাড়ে সাত শতাধিক (৭৫০+) শিক্ষার্থী সরাসরি সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছেন। ফিল্টার স্থাপনের পাশাপাশি পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। তৌফিক জানান, প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতার দিকে না তাকিয়ে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এর আগেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌলিক সংকট দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন চাকসুর এই প্রতিনিধি। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলে (দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল, বিজয় চব্বিশ হল, প্রীতিলতা হল, নওয়াব ফয়জুননেছা হল ও শামসুন্নাহার হল) খাবার সংরক্ষণের সুবিধার্থে উন্নতমানের পাঁচটি ডিপ ফ্রিজ পৌঁছে দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চাকরির প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য ছেলে ও মেয়েদের আবাসিক হলের রিডিং রুমগুলোতে বিসিএস, ব্যাংক, এনটিআরসিএ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক বই সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

শাহজালাল হল সংসদের সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তামিম বলেন, “শাহজালাল হলের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কোনো কম্পিউটারের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রেজেন্টেশনের স্লাইড তৈরি, টাইপিং শেখা, মাইক্রোসফট এক্সেলের কাজসহ বিভিন্ন কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজ করতে শিক্ষার্থীদের বেশ বেগ পেতে হতো।

শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমি তৌফিক ভাইকে হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কম্পিউটার প্রদানের অনুরোধ জানাই। অবশেষে ভাই শাহজালাল হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কম্পিউটার উপহার দিয়েছেন। ”নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও এক বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার ভাই-বোন। তাদের মৌলিক সমস্যাগুলো আমারও নিজস্ব সমস্যা। চাকসুতে এজিএস হিসেবে আমার অফিস খরচ, চা-নাস্তা ও আপ্যায়নের জন্য আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ ছিলো। কিন্তু আমি এক বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ থেকে নিজের কোনো চা-নাস্তা, আপ্যায়ন বা যাতায়াত খরচ বহন করিনি; পুরো ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে চালিয়েছি। বরাদ্দের টাকা দিয়ে যেসব হলে কম্পিউটার ছিলো না সেখানে কম্পিউটার দিয়েছি এবং শহীদ ফরহাদ হলে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসিয়ে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অর্থের অপচয় না করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া চাকসু এজিএসের এমন গণমুখী উদ্যোগ সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন