পাবিপ্রবিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

‎পাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ২৩:১৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পাবিপ্রবিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দিন-রাত মশার উৎপাত থাকায় পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীরা। 
‎
‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় দ্রুত মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‎
‎শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের আশপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন এবং ময়লা ফেলার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। পাশাপাশি নিয়মিত মশানাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
‎
‎স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘মশার উপদ্রব একদম অস্বাভাবিক। সব সময় মশার প্যানপ্যানানি শব্দ আছেই। মনে হয় যেন সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট চলে! সন্ধ্যার পর এটা আরও বেড়ে যায়। কয়েল জ্বালানো বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। রাতে ঘুমাতেও অনেক সমস্যা হয়। মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এভাবে নিয়মিত মশার উপদ্রবের মধ্যে থাকা খুবই বিরক্তিকর। এতে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও সমস্যা হচ্ছে।’
‎
‎স্বাধীনতা হলের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম জারিফ বলেন, ‘আমরা যারা নিচের তলার কক্ষগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। মশার পরিমাণ অনেক বেশি। সন্ধ্যা হওয়ার পর থেকেই মনে হয় যেন মশার রাজ্যে বসবাস করছি। মশা রাজা আর আমরা তার প্রজা। যখন ইচ্ছা আমাদের রক্ত চুষে খায়। এমনকি মশারি টাঙালেও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। খুবই কষ্টে আছি। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন।’
‎
‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘স্বাধীনতা হলের পাশে ময়লা ফেলার সমস্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মশার উপদ্রব কমাতে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হবে।’
‎
‎তিনি আরও বলেন, ‘ময়লা ফেলার কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগে পৌরসভা থেকে ময়লা সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভা ময়লা সংগ্রহ করছে না বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রো-ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। এখন তিনি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, তা দেখতে হবে। আমরা চাই, ময়লা ব্যবস্থাপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক এবং হলের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক।’
‎

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন