পাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২০:৩১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) গড়ে ওঠেনি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যুক্ত রয়েছেন। এমনকি তাদের কয়েকজন জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়। তবে সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যের পরও তাদের এক ছাতার নিচে এনে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। পরে ২০০৮ সালের ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক যাত্রার দেড় যুগ বা ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে গেলেও সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করতে কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তাদের অনেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। শিক্ষকতা, গবেষণা ও পেশাগত অঙ্গনে তাদের এ অগ্রযাত্রা বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠলে সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব। চাকরির প্রস্তুতি, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেশাগত যোগাযোগ তৈরিতে এ ধরনের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগেও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ থাকলেও কেন্দ্রীয় কোনো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সবাইকে একই কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। একটি অভিন্ন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও পেশাগত দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হতে পারবেন বলে আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, তাদের কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ারবিষয়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ইইই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহা: অহিদুল ইসলাম, বর্তমানে সিটিগ্রুপের ইউকে বাংলা সিমেন্ট লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজার ও ইন-চার্জ (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পাবিপ্রবিতে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা হতাশাজনক। একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে,আউটকাম বেইস্ট এডুকেশন (ও বি ই) বাস্তবায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠুক, যা সব ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের ইইসিই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জি এম মেহেদী হাসান বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্পে সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম কিংবা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখছেন, সেটিও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছরের পথচলায় বিভিন্ন বিভাগের অসংখ্য শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্র, শিক্ষকতা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়, যা হতাশাজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। অভিজ্ঞ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে নবীনদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন তৈরি হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।’