চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘অন্যপাতা’ মুক্তি পেল ১০ হলে

দেবদাস বিশ্বাস,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯:৫২, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘অন্যপাতা’ মুক্তি পেল ১০ হলে

পড়াশোনা, পরীক্ষা আর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেই নিজেদের স্বপ্নকে বড় পর্দায় রূপ দিয়েছেন একদল তরুণ শিক্ষার্থী। দুই বছরেরও বেশি সময়ের পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নির্মিত চলচ্চিত্রটি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নির্মিত হয়েছে ‘অন্যপাতা’। মুক্তির আগে ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তরুণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটির গল্প ও উপস্থাপনা নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান চরিত্র তিহার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা ঘোষ। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের প্রস্তাবটি তাঁর কাছে বেশ আকস্মিকভাবেই এসেছিল। পরিচালক ও প্রযোজক তাঁর স্বাভাবিক চেহারা ও অভিব্যক্তির সঙ্গে তিহা চরিত্রটির সামঞ্জস্য খুঁজে পান। চিত্রনাট্য শোনার পর তাঁরও মনে হয়, চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

প্রত্যাশা ঘোষ বলেন, এর আগে অভিনয় কিংবা ক্যামেরার সামনে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। শুরুতে কিছুটা ভয় কাজ করলেও পুরো দলের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নিজেও একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভর্তি পরীক্ষাকেন্দ্রিক গল্পের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করে তিহা চরিত্রটিকে স্বাভাবিক ও অকৃত্রিমভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি শুটিংয়ের সময় চলচ্চিত্রের মিউজিক ভিডিওসহ কয়েকটি দৃশ্যের ধারণাও তাঁর মাথায় আসে। সেগুলো এনি ভাইয়ার সঙ্গে ভাগ করে নিলে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন। পুরো অভিজ্ঞতাকে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ ও নতুন কিছু শেখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রত্যাশা। দর্শকেরা তিহা চরিত্রের মধ্যে বাস্তবতা ও নিজেদের পরিচিত অনুভূতির প্রতিফলন খুঁজে পেলে সেটিই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং এসবের মধ্যেই গড়ে ওঠা ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘অন্যপাতা’। শিক্ষার্থীদের পরিচিত জীবন, আবেগ, স্বপ্ন ও বাস্তবতাকে গল্পের মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। ফলে শিক্ষার্থী ও তরুণ দর্শকেরা চলচ্চিত্রটির গল্পের সঙ্গে নিজেদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেতে পারেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। ঢাকায় স্টার সিনেপ্লেক্সের সনি স্কয়ার, লায়ন সিনেমাস ও শ্যামলী সিনেমায় এবং চট্টগ্রামে স্টার সিনেপ্লেক্সের বালি আর্কেড ও সুগন্ধা সিনেপ্লেক্সে দেখা যাচ্ছে ‘অন্যপাতা’। এ ছাড়া কুমিল্লার কে-স্ক্রিন, বগুড়ার মম ইন সিনেপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ, কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স এবং রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউতেও চলছে চলচ্চিত্রটি।

শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নির্মিত ‘অন্যপাতা’র মুক্তি তরুণ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নিজেদের গল্প বড় পর্দায় তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা।

আরও পড়ুন