পিরোজপুরে সুপারির আবাদ বাড়লেও কমছে ফলন, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

‎জাকির ফরাজীঃ 

প্রকাশ: ১৯:৫৭, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরে সুপারির আবাদ বাড়লেও কমছে ফলন, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

‎ভোরের আলো ফুটতেই ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষিতে মুখর হয়ে ওঠে পিরোজপুরের কাউখালী বাজার। জেলার সবচেয়ে বড় সুপারির এ হাটে প্রতিদিনই জমে বেচাকেনা। আকর্ষণীয় রং ও আকারে বড় হওয়ায় পিরোজপুরের সুপারির চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। এ হাট থেকে পাইকারদের হাত ধরে সুপারি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে আবাদ বাড়লেও এবার ফলন কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
‎
‎কাউখালী বাজারের সুপারির ব্যবসাকে ঘিরে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষের। তাঁদের কেউ সুপারি কেনাবেচা করেন, কেউ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দিনে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন অনেকে। তবে এবার সুপারির দাম কম থাকায় তাঁদের আয়ে টান পড়েছে।
‎
‎কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পিরোজপুর জেলায় ৪ হাজার ৬৬৯ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪০ থেকে ৯৩০ কোটি টাকা।
‎
‎জেলার পিরোজপুর সদর, কাউখালী, নেছারাবাদসহ সাত উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির ফলন কম হয়েছে। বড় মোকামে চাহিদা কম থাকলেও স্থানীয় বাজারে চাহিদা ভালো রয়েছে। ফলে বাজারে সুপারি বিক্রি করে মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। তবে ফলন কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
‎
‎চাষিদের আশঙ্কা, ফলন কমে যাওয়ায় বাজারে সুপারির ভালো দাম পেলেও সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে না। এ পরিস্থিতিতে সুপারির উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
‎
‎কাউখালী বাজারের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম জানান, বাজারের খাজনা কম হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার—এই দুই দিন বাজারে কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়।
‎
‎পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, সুপারির উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করছে কৃষি বিভাগ।
‎
‎সুপারির আবাদ ও বাজার ঘিরে পিরোজপুরে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হলেও ফলন কমে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চাষিদের প্রত্যাশা, উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে সুপারির এ সম্ভাবনাময় খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন