উজিরপুরে কাওসার হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৯

হুমায়ুন কবির, বরিশাল

প্রকাশ: ২০:১৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

উজিরপুরে কাওসার হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৯

বরিশালের উজিরপুরে চাঞ্চল্যকর কাওসার হাওলাদার (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলমদী এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, মো. সজল মোল্লা (৩৮), মো. শামিম মোল্লা (৩৬), মো. মেহেদী মোল্লা (২৮) ও মো. ইকবাল হোসেন ওরফে নান্নার (৪২) নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি একটি সাদা হাইয়েস মাইক্রোবাস ও একাধিক মোটরসাইকেলে করে আলমদী এলাকার একতা বাজারসংলগ্ন শাহআলম সরদারের বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে আসে। সেখানে তারা কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারকে দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে কাওসার ও রাশেদ পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় কাওসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায় পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় ধাওয়া করে শরীয়তপুর জেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকার টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশ থেকে মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি সজল মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—

১. প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত একটি চায়না চাপাতি।
২. কাঠের হাতলযুক্ত একটি ধারালো কুড়াল।
৩. কালো কস্টেপ দিয়ে প্যাঁচানো একটি স্টিলের পাইপ।
৪. আসামিদের ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮৭৫৬ নম্বরের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। কাওসার হাওলাদার হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন