আসিফের গাড়িতে গুলি: হামলাকারী সম্পর্কে যেসব তথ্য জানাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:৩৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আসিফের গাড়িতে গুলি: হামলাকারী সম্পর্কে যেসব তথ্য জানাল পুলিশ

কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় এখনো হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীর পায়ের অংশ দেখা গেছে। ওই ফুটেজের সূত্র ধরে তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে এসে থামে। অটোরিকশা থেকে নেমে এক ব্যক্তি আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে তিনি আবার অটোরিকশায় উঠে মালিবাগের দিকে চলে যান। ওই অটোরিকশায় আর কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে বিশাল সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি চালানো হয়। ঘটনার সময় তিনি ভবনটির তৃতীয় তলায় নিজের স্টুডিওতে ছিলেন। গাড়ির চালকও সেখানে ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির চালকের আসনের পেছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এক রাউন্ড গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আসিফ আকবর স্টুডিওতে আসেন। সেখানে তাঁর কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন। রাত ৩টার দিকে তাঁরা স্টুডিও থেকে চলে যান।

শনিবার সকালে কাছাকাছি থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে গাড়িতে গুলির চিহ্ন দেখতে পেয়ে তিনি আসিফ আকবরকে বিষয়টি জানান। এরপর নিচে নেমে পরিস্থিতি দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন এই কণ্ঠশিল্পী।

উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসিফ আকবরের সঙ্গে কথা বলে। তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না এবং এ ঘটনায় তাঁর কোনো অভিযোগ নেই বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

তবে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ইবনে মিজান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আরও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে পাওয়া একটি ফুটেজে হামলাকারীর শুধু পা দেখা গেছে। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসিফ আকবরের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ের কারও বিরোধ রয়েছে কি না, তাঁর বৈধ অস্ত্র আছে কি না বা নতুন করে অস্ত্রের আবেদন করেছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কুমিল্লায় স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা এবং কারও সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন