মোঃ ইকরাম হাসান তিতুমীর কলেজ
প্রকাশ: ২৩:১৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ব্যস্ত নগরী ঢাকা। কারও কাছে এ শহর স্বপ্ন গড়ার, কারও কাছে জীবিকার, আবার অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শুধুই পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিকানা। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর টিউশনির ব্যস্ততায় এখানে কেটে যায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পরিবার থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর মনে বাড়ির টান যেন সব সময়ই অমলিন। ছুটি এলেই তাই মন ছুটে যায় আপন নীড়ে, যেখানে অপেক্ষায় থাকেন প্রিয় মুখগুলো।
দুর্গাপূজার ছুটিতে সেই চেনা টানেই রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে গ্রামের পথে পা বাড়াচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। গন্তব্য গ্রামের বাড়ি, যেখানে অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা-মা, ভাইবোন ও প্রিয়জনেরা। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার পর পরিবারের সান্নিধ্যে কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগ তাঁদের কাছে যেন একটুকরো স্বস্তি, একমুঠো আনন্দ আর চেনা জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রশান্তি।
বাড়ি ফেরার এই আনন্দযাত্রায় পিছিয়ে নেই রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততার মাঝে ১১ একরের ছোট্ট সবুজ ক্যাম্পাসটি যেন এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা। প্রতিদিন যেখানে শিক্ষার্থীদের পদচারণ, বন্ধুদের আড্ডা, নাচ-গান আর নানা আয়োজনে মুখর থাকে চারপাশ, দুর্গাপূজার ছুটিতে সেই চেনা ক্যাম্পাসেই নেমে এসেছে নীরবতা।
দীর্ঘ ১২ দিনের ছুটিতে প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বদলে গেছে প্রতিদিনের চেনা দৃশ্যপট। নেই ক্লাসে যাওয়ার তাড়া, বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা কিংবা ক্লাবের নানা আয়োজন। চিরচেনা পথঘাট, কোলাহলে মুখরিত চত্বর আর সবুজ খেলার মাঠ সবই আছে আগের মতো। শুধু নেই সেই চেনা মুখগুলো, যাঁদের হাসি-আড্ডা আর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে প্রতিদিন জেগে উঠত পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে তাই ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে উঠছে সরকারি তিতুমীর কলেজের আঙিনা। যেন প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ফিরতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পেছনে ফেলে গেছেন তাঁদের প্রতিদিনের চেনা এক টুকরো জগৎ।
এ নিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ‘পূজার ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরছে। ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। তবে এই নীরবতারও একধরনের সৌন্দর্য আছে। ফাঁকা ক্যাম্পাসে পাখিদের আনাগোনা, খালি মাঠ একধরনের শান্ত পরিবেশ তৈরি করছে। ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা ফিরে এলে ক্যাম্পাস পাবে তার চিরচেনা রূপ। আবার তৈরি হবে আড্ডার সেই পরিচিত পরিবেশ, সেই প্রত্যাশা করি আমি।’
বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুপ হাসান আহাদ বলেন, ‘ঈদের পর দীর্ঘদিন পর বাড়ি যাচ্ছি। বাড়িতে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হবে। আড্ডা হবে। বাড়ি যাওয়ার এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’
মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাড়ি যাব। এখানে সবচেয়ে বেশি মাকে মিস করেছি। বাড়ি গেলে মায়ের সঙ্গে দেখা হবে। মায়ের হাতের রান্না খাব। সময় কাটাব। ভাবতেই আমার ভালো লাগছে। এবারের ছুটিটা আমার জন্য অনেক দরকার ছিল।’
আগামী ৩১ অক্টোবর শেষ হবে পূজার ছুটি। আবার ক্যাম্পাসে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাঙ্গণ। মুক্তমঞ্চে শোনা যাবে গান, বিতর্ক মঞ্চে উঠবে তুমুল বিতর্কের ঝড়, শহীদ ওয়াসিম চত্বর, শহীদ মামুন চত্বর আর বাঁশের কেল্লা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।