মোঃ ইকরাম হাসান, তিতুমীর কলেজ
প্রকাশ: ২৩:১৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে তৎপরতা দেখা যায়। তবে বিশেষ উপলক্ষ্য ঘিরে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ থাকলেও বছরের অন্যান্য সময়ে ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে স্বাভাবিক সময়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তাদের মধ্যে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই কলেজের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কারের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিপাটি করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টার মধ্যে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ, সেমিনার, বিভাগীয় কার্যালয়, ল্যাব, ওয়াশরুম ও চারপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সব শিক্ষক ও কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ অযত্নে পড়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আগমন ঘিরে বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়। অথচ প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন।
এদিকে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) গঠনের পর তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাওয়ায় কলেজের আয় হ্রাস পেয়েছে। এতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কার্যক্রমে। অর্থসংকটের কারণে বেসরকারি কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে জনবল কমে গেলে ক্যাম্পাসের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রীয় অতিথির আগমন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে অতিথির আগমনে যে তৎপরতা দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সেই আন্তরিকতা কোথায়? একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু সৌন্দর্যবর্ধনে নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষ, ক্যান্টিন ও আবাসনসুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত। আমরা চাই, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা বিশেষ দিনে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত বজায় থাকুক। অতিথির জন্য সাময়িক সাজসজ্জা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য চাই স্থায়ী উন্নয়ন।”
প্রশাসনের এমন বিশেষ তৎপরতা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আসার খবর যদি প্রতিদিন আসত, তাহলে হয়তো আমাদের ক্যাম্পাসও প্রতিদিন এমন পরিষ্কার থাকত। বিশেষ অতিথির আগমনে প্রশাসনের যে তৎপরতা দেখা যায়, তা অন্য সময়ে চোখে পড়ে না। অথচ পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রত্যাশা। আমরা চাই, শুধু অতিথিদের জন্য নয়, সারা বছরই ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক।”
পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশাকুল বলেন, “বিশেষ অতিথির আগমন উপলক্ষ্যে আজ ক্যাম্পাসে যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, শুধু বিশেষ দিনে নয়, সারা বছরই ক্যাম্পাস এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক। পাশাপাশি বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসের সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে সব সময় আজকের মতো পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাসই আমাদের প্রত্যাশা।”
২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বলেন, “শিক্ষাঙ্গণ হবে শিক্ষার্থীবান্ধব, আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস আমাদের অধিকার, কোনো বিশেষ দিনের উপহার নয়। প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিশেষ কোনো ব্যক্তির আগমন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাস ঝকঝকে করা হলেও অন্যান্য সময় তা অযত্নে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা লোক-দেখানো পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থায়ী সুন্দর পরিবেশ চাই। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য শুধু অতিথিদের দেখানোর জন্য নয়, এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের প্রাপ্য। তাই আমাদের দাবি, বিশেষ দিনে নয়, বছরের প্রতিটি দিনই ক্যাম্পাস থাকুক পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শিক্ষার্থীবান্ধব।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু প্রধানমন্ত্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আগমন উপলক্ষ্যে নয়, বরং সারা বছর ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।