এম সনজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ২৩:১২, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়া এলাকায় পাখিভ্যানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে রবিউল (১৭) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে হাটবোয়ালিয়া–ভালাইপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রবিউল ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়ার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। আদরের সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
মায়ের জন্য বড়া ভাজা কিনে বাড়িতে ফেরে রবিউল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভাংবাড়ীয়ায় সাপ্তাহিক হাট ছিল। বিকেলে রবিউল মায়ের জন্য মুজাহিদের দোকান থেকে বড়া ভাজা কেনে। পরে মুজাহিদের পাখিভ্যান নিয়ে বাড়িতে গিয়ে মায়ের হাতে খাবার তুলে দেয়। এরপর শখের বশে পাখিভ্যান চালিয়ে মহেশপুর মোড়ের দিকে রওনা হয় সে।
পথে হাটবোয়ালিয়া–ভালাইপুর সড়কের ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়া এলাকায় পৌঁছালে পাখিভ্যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে রবিউল। একপর্যায়ে ভ্যানটি সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গুরুতর আহত হয় সে। ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রবিউলকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে রবিউলের বাবা ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ছেলে পাখিভ্যান নিজেই চালাচ্ছিল। আমার কোনো দাবিদার নেই।”
রাতেই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভাংবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে রবিউলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া
যে বয়সে বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সেই থেমে গেল রবিউলের জীবন। মায়ের জন্য সামান্য খাবার কিনে বাড়িতে দিয়ে বের হওয়া কিশোরটি আর কখনো ঘরে ফিরবে না—এ শোক মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
রবিউলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা, স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।