আলমডাঙ্গায় ২৭ মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:৪৭, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০০:১৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আলমডাঙ্গায় ২৭ মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে পিয়াল মাহমুদ ওরফে পিয়াল সাদ্দাম (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর মালিকানাধীন একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে চাপাতি, কুড়াল, ছুরি, বড় ছোরাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া পিয়াল সাদ্দাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়া-ক্যানালপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামের একটি গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে মিয়াপাড়া-ক্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনৈক কুদ্দুসের বাড়ির পেছনে শমসের মল্লিকের ডোবা পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে পিয়াল সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামে তাঁর মালিকানাধীন গোডাউনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে একটি টেবিলের নিচ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৪ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার চাপাতি, কাঠের বাটযুক্ত একটি দেশীয় লোহার কুড়াল, সাড়ে ১০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি লোহার ছুরি, কাঠের বাটযুক্ত ২৪ ইঞ্চি লম্বা একটি বড় লোহার ছোরা, স্টিলের বাটযুক্ত ৩৩ ইঞ্চি লম্বা একটি বড় ছোরা এবং ৪৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার রড।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিয়াল সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি মামলা বিচারাধীন। অপর একটি মামলায় চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। জিআর-৪৪/২০ (আলমডাঙ্গা) নম্বরের ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, পিয়াল সাদ্দামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোডাউনে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ ব্যবসা প্রতিরোধ এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন