অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা তিন মাস ধরে, সময়সূচি নিয়ে ক্ষোভ

আল আমিন মোহ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রকাশ: ১৯:৫৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা তিন মাস ধরে, সময়সূচি নিয়ে ক্ষোভ

নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচি গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রায় তিন মাসব্যাপী পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা। পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তারা।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর প্রকাশিত রুটিনে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালে পরীক্ষাব্যবস্থায় যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল, তা এখনো দূর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও পরীক্ষাপদ্ধতিতে প্রত্যাশিত সংস্কার না আসায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, “৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ল্যাব পরীক্ষা যুক্ত হলে মোট পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার মাঝে ১৫ থেকে ৩০ দিনের দীর্ঘ বিরতি পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট করছে। এতে সেশনজট, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রুটিন পুনর্বিবেচনা করে সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিসংগত সময়ে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে একই ক্যাম্পাসের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তারেক হোসেন বলেন, “টানা তিন মাস ধরে পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা উপেক্ষা করা হতাশাজনক। নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধিভুক্তির সময়কার ব্যবস্থার প্রভাব এখনো রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরীক্ষা আয়োজনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”

অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ জানান, ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় এ সময় কলেজগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ফলে পরীক্ষা শেষ করতে বেশি সময় লাগছে। বিজ্ঞান বিভাগের যেসব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে ছুটি তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কম সময় লাগবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব।

চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাও শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ। 

শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় পড়াশোনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে। পাশাপাশি ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু এবং একাডেমিক পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরীক্ষার সময়সূচি আরও পরিকল্পিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন