নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:২৯, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ইয়াহিয়া সারির দাবি, এডেনের বদর ক্যাম্পে অবস্থিত সৌদি অপারেশনস রুম লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
একই দিনে পৃথক বিবৃতিতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর খবর অস্বীকার করেন হুথি মুখপাত্র। মদিনার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান ও হামলার জবাবে তারা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার অবস্থানও বারবার জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এর আগে ২০ অক্টোবর ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের আটটি প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে সৌদি যুদ্ধবিমান অন্তত ৯৩টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, আল-জৌফ, তাইজ, সায়াদা, মারিব, হাজ্জাহ, লাহাজ, আমরান ও ইব্ব প্রদেশে এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
হুথি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, খামিস মুশাইত, তাইফ, আল-খারজ ও শারুরা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলাগুলো চালানো হয়। বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকে ইয়েমেনে সৌদি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা ২ হাজার ৭৯৩টিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ধুবাব জেলার আল-কাদাহা সৈকতের কাছে মাছ ধরার একটি নৌকায় সৌদি বিমান হামলায় আটজন জেলে নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, প্রথম হামলার পর পালানোর চেষ্টা করা জেলেদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এসব তথ্যের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ১৯ অক্টোবর হুথি বাহিনী ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের তেল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি বড় অভিযান চালানোর দাবি করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি, সামরিক রাডার ও একটি নৌবাহিনীর ক্যাম্প।
হুথিদের দাবি, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আরামকো ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইত ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয় বলেও জানায় তারা। বীর আসকরে একটি কৌশলগত সামরিক রাডার ধ্বংসের দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি।
তবে এসব হামলা, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সূত্রের তথ্য প্রয়োজন।