সাত দিন পর মুক্তির নির্দেশ পেলেন সিজেপির দুই নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০:১৬, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সাত দিন পর মুক্তির নির্দেশ পেলেন সিজেপির দুই নেতা

সাত দিন কারাবন্দি থাকার পর মুক্তির নির্দেশ পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ এবং আগে দেওয়া শান্তি রক্ষার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

বুধবার সন্ধ্যায় দুই নেতার মুক্তির নির্দেশের খবর প্রকাশ্যে আসে। এর আগে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। তবে শুনানিতে বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ প্রথমে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে পরে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর দুই নেতা হাই কোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।

দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আগে দেওয়া শান্তি রক্ষার মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘন করেন। বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে একাধিকবার শুনানি হয়। পুলিশ আরও তিন দিন তাঁদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানায়। মুক্তি পেলে তাঁরা আবারও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও আদালতে তুলে ধরে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

দুই নেতার আটককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চলমান প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সিজেপি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ স্বীকার করেনি।

মুক্তির নির্দেশের মধ্য দিয়ে দুই নেতার কারাবাসের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখনো গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির নির্দেশের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন