উত্তপ্ত মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৫০, ২০ অক্টোবর ২০২৬

উত্তপ্ত মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ

ভারতের মণিপুরে দুই মেইতেই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বন থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এ ঘটনার প্রতিবাদে নিহতদের লাশ মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের ইম্ফলের বাসভবনের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহত দুজনের নাম অরুবাম রনিল (৩৫) ও লায়েরেনলাকপাম ইনাওবি (৫১)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালে ১৪ জনের একটি দল জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পাহাড়ি এলাকায় যায়। ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে লাশগুলো জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। বিক্ষোভের সময় মুখ্যমন্ত্রী বাসভবনে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যটিতে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লহরি দর্জি লহাতু জানান, ১৮ অক্টোবর রাতে থৌবাল জেলার খাংগাবোক পালি বাজারে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে খাংগাবোক ও সাংগাকফাম এলাকার লোকজনও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।

রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি রাজ মেডিসিটিতে মারা যান। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, আসাম রাইফেলস ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ছাড়া সিংজামেই থানার কাছে কাকওয়া লামদাইবুং লাম্পাকে একটি আইইডি বিস্ফোরণে সিআরপিএফের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন