ইশরাকের সংবাদ সম্মেলনের পর গেন্ডারিয়ায় অভিযানে আটক ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০:৩৭, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকের সংবাদ সম্মেলনের পর গেন্ডারিয়ায় অভিযানে আটক ১৪

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১০।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার পরপরই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।

এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবার দুপুরে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও অভিযান শেষে সেখানে আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের উপস্থিতি দেখা যায়।

সম্প্রতি ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সেখানে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মাদক কেনাবেচা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সোমবারের অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেকসহ চিহ্নিত মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে মামলা করার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। তবে বারবার অভিযান চালিয়েও এলাকাগুলো পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের অনেকে ভাসমান। তাঁরা হঠাৎ এসে মাদক কেনাবেচা বা সেবন করে চলে যান। অভিযানের সময় যাঁদের পাওয়া যায়, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাওয়ার পর আবারও অনেকে সেখানে ফিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, রেলস্টেশনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। সীমিত জনবল দিয়ে একসঙ্গে অনেক এলাকা নজরদারিতে রাখতে হয়। ফলে একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালনে গেলে আগের এলাকায় আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা শুরু হতে পারে।

ঘুন্টিঘর এলাকায় স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন